Menu |||

ক্রস ফায়ারে কোনো পলিটিক্যাল লোক মারা যায় না,চোর, গুন্ডা, খুনী মারা যায়

জাকির সিকদার, ঢাকা:  ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের ক্রস ফায়ারে মারা যাওয়ার ঘটনায় সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের আইন প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বীরউত্তম মন্তব্য করেছেন, ‘ক্রস ফায়ারে কোনো পলিটিক্যাল লোক মারা যায় না। চোর, গুন্ডা, খুনী এরাই মারা যায়। তৃতীয় বিশ্বে আমি এই কাজটাকে অপরাধ বলি না। কারণ দানবের কোনো মানবাধিকার নেই।’

একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলামেইলেকে এসব কথা জানান। তার সঙ্গে কথোপকথনে ওঠে আসে সাম্প্রতিক নানা প্রসঙ্গ ও এর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিএনপির কোনো বিবৃতি বা কর্মসূচি না থাকলেও তিনি দাবি করছেন তার দল শোক দিবসের বিপক্ষে নয়।

বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগ দলীয়করণ করেছে মন্তব্য করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছাড়া আওয়ামী লীগের পুঁজিটা কি? বঙ্গবন্ধু আমাদেরও পূজি। তিনিতো আমাদেরও নেতা।’

বাংলোমেইলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয় তাকে। তিনি তার সোজাসাপ্টা উত্তরও দেন।

বাংলামেইল: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কিভাবে দেখছেন?

শাজাহান ওমর: দেশেতো বর্তমানে রাজনীতি নেই। আমি দেখবো কি? এটাতো গণতান্ত্রিক স্টেট নয়। বিনাভোটে সরকার চলছে। এটা দেখার কি আছে। যতদিন পারবে এইভাবে চালাবে তারা। সবকিছুরই একটা পরিণতি আছে। ‘এভরিথিং হ্যাজ এ ফল’- আমি এভাবেই দেখি। আপনারা দ্যাখেন বিভিন্ন টিভি টক শোতে-পত্রিকায়, সব জায়গা আলোচনা হয় সকলে দেশের পরিবর্তন চায়। সুষ্ঠু পরিবেশ চায়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ চায়। জনগণের ভোটে সরকার গঠন হয়ে দেশ শাসন হবে এটা সকলে চায়। আপনিও চান, আমিও চাই।

বাংলামেইল: বিএনপিতো এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত?

শাজাহান ওমর: ঘর গোছানো মানে কি? সব দলে এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। দলের পরিবৃদ্ধি বলেন, পরিবর্তন বলেন, নতুন কমিটি বলেন, সব দলে হয়। দু’ বছর পরপর করাতো নিয়ম সংগঠনে। আমাদের দলের গঠনতন্ত্রে এমনকি সব দলের গঠনতন্ত্রেই কারো দুই বছর বা ৩ বছর পরে নতুন করে ফ্রেশ কমিটি গঠনের নিয়ম আছে। এটা চলমনা প্রক্রিয়া। কমিটি রদবদল হবে। যেটা পুরাতন আছে সেটা নতুন হবে। যেটা নতুন আছে সেটা সামনে চলবে। ঘর গোছানোতো বলে না। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক পার্টি। গণতান্ত্রিক পার্টির নিয়ম অনুসারে, দলের সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে এবং প্রয়োজন অনুসারে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য নতুন কমিটি করি।

বাংলামেইল: দলের শীর্ষ নেতারা বলেছেন বিএনপি এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত…

শাজাহান ওমর: শীর্ষ নেতারা কে? আমি বুঝতে পারছি না। যারা বলেন তারা সুন্দর বাংলা ভাষা জানেন না।

বাংলামেইল: চলমান পরিস্থিতিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের যে রদবদল প্রক্রিয়া চলছে তাকি সফল হবে?

শাজাহান ওমর: কেন সফল হবে না? ১৯৭৮ থেকে আজকে ২০১৫। বিএনপির কমিটি কতবার পরিবর্তন হয়েছে, কতবার নতুন কমিটি হয়েছে, কতবার পুরাতন কমিটি বিলুপ্তি হয়েছে। এতে না পারার কি আছে? ‘ইটস সিম্পল জব’।

বাংলামেইল: সাফল্য নিয়ে যাদের সংশয় রয়েছে তাদের সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?

শাজাহান ওমর: যারা সাফল্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, তারা অরাজনৈতিক ব্যক্তি। এরা বিএনপি বা আওয়ামী লীগ বা অন্যান্য বড় দলের যে সাংগঠনিক কাঠামো বা গঠনতন্ত্র, এ সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নন।

বাংলামেইল: জাতীয় শোক দিবস নিয়ে বিএনপির অবস্থান কি?

শাজাহান ওমর: জাতীয় শোক দিবস মানে, শেখ মুজিবুর রহমানের …

বাংলামেইল: হ্যাঁ…

শাজাহান ওমর: মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি ছিলেন। উনি ইন্তেকাল করছেন আমরা মর্মাহত।

বাংলামেইল: জাতীয় শোক দিবস নিয়ে বিএনপির অবস্থান অস্পষ্ট…

শাজাহান ওমর: স্পষ্ট করার কি আছে এখানে? মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব মারা গেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার এটাকে শোক দিবস ডিক্লিয়ার করেছে। ফাইন, শোক দিবস হয়েছে।

বাংলামেইল: বিএনপি কি সমর্থন করে?

শাজাহান ওমর: অসমর্থনের কোথাও কিছু দেখি না। আমরা তো তখন এর প্রতিবাদ করিনি যে শোক দিবস করতে পারবে না।

বাংলামেইল: জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে রাজনীতিতে বিতর্ক রয়েছে…

শাজাহান ওমর: এগুলো খামাখা বিতর্ক। আচ্ছা আপনি বলেন তো ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে কি আর কোনো বাচ্চা জন্মগ্রহণ করেনি? ওইদিন জন্মগ্রহণ হয় না? ৩৬৫ দিনের প্রতিদিনই তো বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। শেখ মুজিবুর রহমান ৭৫ সালে ১৫ আগস্ট ইন্তেকাল করেছেন বা আর্মি অভ্যুত্থানে মারা গেছেন। ওই দিন কি বাংলাদেশে কোনো বাচ্চা হয়নি? সেই বাচ্চার কি জন্মদিন বাবা মা করে না? খালেদা জিয়া করলে অসুবিধাটা কোথায়? খালেদা জিয়া তো শেখ মুজিবুর রহমানের শোক দিবস সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন নি বা উনার কোনো বক্তৃতায় মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেছে?

বাংলামেইল: প্রতিবার দেখা যায় ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করা হয়। এবার তা হলো না…

শাজাহান ওমর: শুক্রবার ছিলো।

বাংলামেইল: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবার বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্ম দিন পালনের সময় পরিবর্তনের আহবান জানানো হয়েছিলো…

শাজাহান ওমর: আহবান জানায় কেন? এটাইতো বেয়াকুবি। আরে ভাই, ১৫ তারিখ তো জন্মগ্রহণ করতেই পারে। যার জন্মদিন সে পালন করুক, যার শোক দিবস সে পালন করুক। সমস্যা কী? জন্মদিন পালন করেও শোক দিবসে সমর্থন জানানো যায়।

বাংলামেইল: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুকে সর্বজনীন করার কথা বলেছেন…

শাজাহান ওমর: সুন্দর কথা বলেছে। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান তো আওয়ামী লীগের প্রপার্টি নয়। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র জাতির প্রপার্টি। উনি জীবিত অবস্থায় আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ (বাকশাল) করেছিলেন। তাতে বাংলাদেশের সমস্ত লোক ছিলো। আওয়ামী লীগ তো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যূত হয়ে আজকাল আওয়ামী লীগ করছে। বঙ্গবন্ধু তো মৃত্যুর আগে আওয়ামী লীগে ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাকশালে।

বাংলামেইল: বঙ্গবন্ধুকে কী আওয়ামী লীগ দলীয়করণ করেছে?

শাজাহান ওমর: অবশ্যই। বঙ্গবন্ধু ছাড়া আওয়ামী লীগের পুঁজিটা কি? বঙ্গবন্ধু আমাদেরও পুঁজি। তিনি তো আমাদেরও নেতা।

বাংলামেইল: সেটা কি বিএনপি ধারণ করতে পেরেছে?

শাজাহান ওমর: কেন পারবে না? বিএনপি কি কখনও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেছে। রেকর্ড নিয়ে আসেন। জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া বিশেষ করে এই দুইজন বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কখনও কিছু বলেছে? এখন সাধারণ পাবলিক কি বলে আই ডোন্ট কেয়ার। এই দুইজন বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কখনও কটাক্ষ করেছে?

বাংলামেইল: রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় শোক দিবসে বিএনপির পক্ষ থেকে কখনও বিবৃতি দেখা যায় না কেন?

শাজাহান ওমর: আরে ভাই আমরা তো তার জন্যে দোয়া করি। বিবৃতি দিয়ে লাভ হয় কি। এক লোক মারা গেছে সে জান্নাতবাসী হোক, আমরা দোয়া করি। বিবৃতি দিয়ে কি দোয়া হয় নাকি? মৃত্যুর সঙ্গে রাজনীতি কেন টানেন? আমিও মারা যাবো, আপনিও মারা যাবেন। আমার কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে বলবেন ওমর ভাই ভালো লোক ছিলো, তার থেকে কফি খেয়ে আসছি। আসসালামু আলাইকুম ইয়া হালাল কুবুর, এটা বলে হেঁটে যাবেন। এতে কি বিবৃতি দেয়া লাগবে নাকি? যে ওমর ভাইকে ভালোবাসি তাই বিবৃতি দিলাম।?

বাংলামেইল: একাধিক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ছাত্রলীগ নেতারা মারা গেছে, এ নিয়ে আপনার মন্তব্য কি ?

শাজাহান ওমর: ক্রসফায়ার তো শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকে

বাংলামেইল: বিএনপি সরকারের সময় থেকে…

শাজাহান ওমর: বিএনপি সরকার না, অনেক আগে থেকে ক্রসফায়ার শুরু হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের আমল থেকে। প্রথম ক্রসফায়ারের শিকার হন সিরাজ সিকদার। আপনাকে ইতিহাস জানতে হবে। এরকম অনেকে আছেন, আজকে যারা হাসিনাকে সমর্থন করেন- যেমন রাশেদ খান মেনন তৎকালীন সর্বহারা পার্টির নেতা, হাসানুল হক ইনু তৎকালীন গণবাহিনী করতো, এরাতো বহু আওয়ামী লীগের লোক মেরেছে, রক্ষী বাহিনী মেরেছে। …ক্রসফায়ার শুরু হয়েছে সেই ১৯৭৩ সাল থেকে। নতুন কি? বিএনপি করবে কেন? সিরাজ শিকদারকে ক্রসফায়ারে মেরে সংসদে বলা হয়েছিলো কোথায় সিরাজ সিকদার? তারাইতো গুলি করা আগে শিখিয়েছে।

বাংলামেইল: আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অভিযোগ ছিলো ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু গত কয়েক দিনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতারা ক্রস ফায়ারে মারা গেছে…

শাজাহান ওমর: ক্রসফায়ারে কোনো পলিটিক্যাল লোক মারা যায় না। চোর, গুন্ডা, খুনী এরাই মারা যায়। তৃতীয় বিশ্বে আমি এই কাজটাকে অপরাধ বলি না।

বাংলামেইল: তার মানে ক্রসফায়ারকে আপনি সমর্থন করছেন ?

শাজাহান ওমর: সমর্থন না করলেও অনেক সময় এ কাজের প্রয়োজন আছে। যারা খুনের পর খুন, ডাকাতির পর ডাকাতি, রেপ এগুলো করে যাচ্ছে তাদের জন্য ক্রসফায়ার দরকার আছে। শোনেন, মানবাধিকার সুন্দর শব্দ, দানবাধিকার বলতে কোনো শব্দ আছে বাংলা ডিকশনারীতে? ওরা দানব। দানবের চৌদ্দগুষ্টি ক্রসফায়ারে দিলে দেশে শান্তি আসবে। ঠিকই আছে। দানবের কোনো মানবাধিকার নেই। ওগুলো কিছু কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী আছে না? আহারে, রুল অব ল নেই! আহারে বিচার পেলাম না! আহারে বিচার ব্যবস্থা! – এসব বলতে পারে। যারা অপরাধের পর অপরাধ করে দেশের স্বার্থে তাদের দু’য়েকটা ক্রসফায়ারে দেয়া একেবারে খারাপ না। এটা অন্য সবার জন্য উদাহরণ হবে। এরকম বাবা তোরা করিস না। দেশে ক্রসফায়ার আছে। তবে ক্রসফায়ারকে আইনগতভাবে আমি অ্যাপ্রুভ করি না।

বাংলামেইল: নৈতিকভাবে সমর্থন করেন?

শাজাহান ওমর: ক্রসফায়ার নৈতিকভাবেও সমর্থন করি না। কিন্তু অবস্থার প্রেক্ষিতে কিছু কিছু সময়- বর্তমানে যাদের করা হচ্ছে তাতে আমি অখুশি না।

বাংলামেইল: আপনি ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন…

শাজাহান ওমর: নো, ইউ আর রং। ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার পক্ষে আমি বক্তব্য দেইনি। ২০ দলীয় জোট নেতারা যখন বক্তৃতা হয়, তখন সবাই বেগম জিয়ার নেতৃত্বের ওপর সব আস্থাশীল। তাই আমি বলেছি, বেগম জিয়ার নেতৃত্ব বা জিয়াউর রহমানের কর্মসূচিতে আপনারা যদি আস্থাশীল থাকেন তাহলে একদল করেন। আর একদল না করলে যুগপৎ আন্দোলন করেন। আপনারা নিজস্ব দল করবেন। আর বিএনপির স্টেজে এসে বক্তৃতা দেবেন, এটা তো অসামঞ্জস্য হয়ে গেলো। আমি সেটা বলেছি।

বাংলামেইল: ২০দলীয় জোট নিয়ে এই বক্তব্যের পর জোট নেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ আপনার সাংগঠনিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

শাজাহান ওমর: আমার সাংগঠনিক যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ? আর উনারা প্রশ্নশুদ্ধ? আমি প্রশ্নবিদ্ধ কিনা বেগম খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞেস করেন। ওরা সব ওয়ান ম্যান পার্টি। নিজে সভাপতি, বউ সেক্রেটারি, পোলা যুবদল, নাতি ছাত্রদল। ওয়ান ম্যান পার্টি ২০ দলে আসছে কেন? এরা তো ২০ দলকে হেয় প্রতিপন্ন করছে। পার্টিতে বড় কে? অলি আহমেদ তো আগে বিএনপিতে ছিলেন , তিনি কেন ভেঙেছেন? আবার কেন ২০ দলে আসছেন? বিকল্প ধারা আগে বিএনপিতে ছিলো। তারা দল ভেঙেছে, আবার কেন আমাদের মিটিংয়ে আসে। হোয়াই? হয় আপনি দলটা ভেঙ্গে চলে আসেন, নইলে ডোন্ট কাম। আপনি যদি আলাদা প্রিন্সিপালে বিশ্বাস করেন তাহলে হোয়াই ডু কাম টুয়েন্টি পার্টি। আপনি আলাদা থাকেন। আপনি এইখানে এসে বড় মিটিংয়ে বক্তৃতা দেবেন, বেগম জিয়ার পাশে বসবেন? সারা ঘরে লোক ৩ জন। এই দল থেকে আপনি চলে গেছেন স্বেচ্ছায়। অলিকে তো বেগম জিয়া বের করে দেননি। অন্য যারা গেছেন তারাও নিজেদের ইচ্ছায় চলে গেছেন। এখন আবার ফিরে আসতে চান কেন? আসেন। নিজের দল ভেঙেচুরে আবার বিএনপিতে আসেন। দল খাড়া করবেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আদর্শ নিয়ে। এটা তো হয় না, বেমানান।

বাংলামেইল: বি. চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি জিয়ার আদর্শচ্যূত হয়েছে…

শাজাহান ওমর: বিএনপি কি জিয়ার আদর্শ থেকে দূরে গেছে নাকি? আওয়ামী লীগের মাদার যেমন মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান এবং বিএনপির মাদারও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এটা হয়তো উনি বলেন ওনার মনে দুঃখ- ক্ষোভ থেকে।

বাংলামেইল: বি. চৌধুরী, অলি আহমদ বিএনপিতে ফিরছে এমন গুঞ্জন রয়েছে…

শাজাহান ওমর: এছাড়া যাবে কই? আমি এ কথাই বলছি। আপনি যদি পত্রিকা দেখেন, ওনাদের অন্য দলে যাওয়ার জায়গা নেই। আমি এই কথাই বলছি। এইখানে আসেন। খামাখা ২০ দল করেন কেন?

বাংলামেইল: ২০ দলের নেতারা যদি বিএনপিতে যোগ দেয় তাহলে তারা কে কোন ধরনের পদ পেতে পারেন।

শাজাহান ওমর: যার যার যোগ্যতা অনুসারে পদ পাবেন। আমি যদি আপনাকে দাওয়াত করি আপনাকে আমি এই চেয়ারে বসাবো না ওই চেয়ারে বসাবো ইউ ক্যান নট ডিক্টেক্ট মি। আপনি আমার গেস্ট। আপনাকে আমি সুবিধা মতো বসাবো। আর যদি এমন হয় আপনি ওই চেয়ার ছাড়া আসবেন না। তাহলে ডোন্ট কাম।

বাংলামেইলকে সময় দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

শাজাহান ওমর: আপনাকে- বাংলামেইলকেও ধন্যবাদ। বাংলা মেইলের সৌজন্যে

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুয়েতে ঈদের আগে সুগন্ধি বাজারে ব্যস্ত ছিলেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা

» কুয়েতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত এবং রাষ্ট্রদূত এর সঙ্গে প্রবাসীদের শুভেচ্ছা বিনিময়

» কান্না দেখে কাঁদছে হৃদয়, আমি মোটেও হৃদয়হীন নয়

» কুয়েতে রাইয়ান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

» কুয়েতে বৃহত্তর ফরিদপুর জনকল্যাণ সমিতি কুয়েতের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

» হাসনাতের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড় সোশ্যাল প্লাটফর্ম

» কুয়েতে আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ কুয়েত শাখার আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

» ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

» জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কুয়েতের শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

» “হামজা” জয় দিয়ে শুরু হোক জয়গান

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

UN Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Hawally. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

ক্রস ফায়ারে কোনো পলিটিক্যাল লোক মারা যায় না,চোর, গুন্ডা, খুনী মারা যায়

জাকির সিকদার, ঢাকা:  ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের ক্রস ফায়ারে মারা যাওয়ার ঘটনায় সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের আইন প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বীরউত্তম মন্তব্য করেছেন, ‘ক্রস ফায়ারে কোনো পলিটিক্যাল লোক মারা যায় না। চোর, গুন্ডা, খুনী এরাই মারা যায়। তৃতীয় বিশ্বে আমি এই কাজটাকে অপরাধ বলি না। কারণ দানবের কোনো মানবাধিকার নেই।’

একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলামেইলেকে এসব কথা জানান। তার সঙ্গে কথোপকথনে ওঠে আসে সাম্প্রতিক নানা প্রসঙ্গ ও এর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিএনপির কোনো বিবৃতি বা কর্মসূচি না থাকলেও তিনি দাবি করছেন তার দল শোক দিবসের বিপক্ষে নয়।

বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগ দলীয়করণ করেছে মন্তব্য করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছাড়া আওয়ামী লীগের পুঁজিটা কি? বঙ্গবন্ধু আমাদেরও পূজি। তিনিতো আমাদেরও নেতা।’

বাংলোমেইলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয় তাকে। তিনি তার সোজাসাপ্টা উত্তরও দেন।

বাংলামেইল: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কিভাবে দেখছেন?

শাজাহান ওমর: দেশেতো বর্তমানে রাজনীতি নেই। আমি দেখবো কি? এটাতো গণতান্ত্রিক স্টেট নয়। বিনাভোটে সরকার চলছে। এটা দেখার কি আছে। যতদিন পারবে এইভাবে চালাবে তারা। সবকিছুরই একটা পরিণতি আছে। ‘এভরিথিং হ্যাজ এ ফল’- আমি এভাবেই দেখি। আপনারা দ্যাখেন বিভিন্ন টিভি টক শোতে-পত্রিকায়, সব জায়গা আলোচনা হয় সকলে দেশের পরিবর্তন চায়। সুষ্ঠু পরিবেশ চায়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ চায়। জনগণের ভোটে সরকার গঠন হয়ে দেশ শাসন হবে এটা সকলে চায়। আপনিও চান, আমিও চাই।

বাংলামেইল: বিএনপিতো এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত?

শাজাহান ওমর: ঘর গোছানো মানে কি? সব দলে এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। দলের পরিবৃদ্ধি বলেন, পরিবর্তন বলেন, নতুন কমিটি বলেন, সব দলে হয়। দু’ বছর পরপর করাতো নিয়ম সংগঠনে। আমাদের দলের গঠনতন্ত্রে এমনকি সব দলের গঠনতন্ত্রেই কারো দুই বছর বা ৩ বছর পরে নতুন করে ফ্রেশ কমিটি গঠনের নিয়ম আছে। এটা চলমনা প্রক্রিয়া। কমিটি রদবদল হবে। যেটা পুরাতন আছে সেটা নতুন হবে। যেটা নতুন আছে সেটা সামনে চলবে। ঘর গোছানোতো বলে না। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক পার্টি। গণতান্ত্রিক পার্টির নিয়ম অনুসারে, দলের সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে এবং প্রয়োজন অনুসারে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য নতুন কমিটি করি।

বাংলামেইল: দলের শীর্ষ নেতারা বলেছেন বিএনপি এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত…

শাজাহান ওমর: শীর্ষ নেতারা কে? আমি বুঝতে পারছি না। যারা বলেন তারা সুন্দর বাংলা ভাষা জানেন না।

বাংলামেইল: চলমান পরিস্থিতিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের যে রদবদল প্রক্রিয়া চলছে তাকি সফল হবে?

শাজাহান ওমর: কেন সফল হবে না? ১৯৭৮ থেকে আজকে ২০১৫। বিএনপির কমিটি কতবার পরিবর্তন হয়েছে, কতবার নতুন কমিটি হয়েছে, কতবার পুরাতন কমিটি বিলুপ্তি হয়েছে। এতে না পারার কি আছে? ‘ইটস সিম্পল জব’।

বাংলামেইল: সাফল্য নিয়ে যাদের সংশয় রয়েছে তাদের সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?

শাজাহান ওমর: যারা সাফল্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, তারা অরাজনৈতিক ব্যক্তি। এরা বিএনপি বা আওয়ামী লীগ বা অন্যান্য বড় দলের যে সাংগঠনিক কাঠামো বা গঠনতন্ত্র, এ সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নন।

বাংলামেইল: জাতীয় শোক দিবস নিয়ে বিএনপির অবস্থান কি?

শাজাহান ওমর: জাতীয় শোক দিবস মানে, শেখ মুজিবুর রহমানের …

বাংলামেইল: হ্যাঁ…

শাজাহান ওমর: মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি ছিলেন। উনি ইন্তেকাল করছেন আমরা মর্মাহত।

বাংলামেইল: জাতীয় শোক দিবস নিয়ে বিএনপির অবস্থান অস্পষ্ট…

শাজাহান ওমর: স্পষ্ট করার কি আছে এখানে? মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব মারা গেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার এটাকে শোক দিবস ডিক্লিয়ার করেছে। ফাইন, শোক দিবস হয়েছে।

বাংলামেইল: বিএনপি কি সমর্থন করে?

শাজাহান ওমর: অসমর্থনের কোথাও কিছু দেখি না। আমরা তো তখন এর প্রতিবাদ করিনি যে শোক দিবস করতে পারবে না।

বাংলামেইল: জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে রাজনীতিতে বিতর্ক রয়েছে…

শাজাহান ওমর: এগুলো খামাখা বিতর্ক। আচ্ছা আপনি বলেন তো ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে কি আর কোনো বাচ্চা জন্মগ্রহণ করেনি? ওইদিন জন্মগ্রহণ হয় না? ৩৬৫ দিনের প্রতিদিনই তো বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। শেখ মুজিবুর রহমান ৭৫ সালে ১৫ আগস্ট ইন্তেকাল করেছেন বা আর্মি অভ্যুত্থানে মারা গেছেন। ওই দিন কি বাংলাদেশে কোনো বাচ্চা হয়নি? সেই বাচ্চার কি জন্মদিন বাবা মা করে না? খালেদা জিয়া করলে অসুবিধাটা কোথায়? খালেদা জিয়া তো শেখ মুজিবুর রহমানের শোক দিবস সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন নি বা উনার কোনো বক্তৃতায় মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেছে?

বাংলামেইল: প্রতিবার দেখা যায় ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করা হয়। এবার তা হলো না…

শাজাহান ওমর: শুক্রবার ছিলো।

বাংলামেইল: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবার বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্ম দিন পালনের সময় পরিবর্তনের আহবান জানানো হয়েছিলো…

শাজাহান ওমর: আহবান জানায় কেন? এটাইতো বেয়াকুবি। আরে ভাই, ১৫ তারিখ তো জন্মগ্রহণ করতেই পারে। যার জন্মদিন সে পালন করুক, যার শোক দিবস সে পালন করুক। সমস্যা কী? জন্মদিন পালন করেও শোক দিবসে সমর্থন জানানো যায়।

বাংলামেইল: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুকে সর্বজনীন করার কথা বলেছেন…

শাজাহান ওমর: সুন্দর কথা বলেছে। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান তো আওয়ামী লীগের প্রপার্টি নয়। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র জাতির প্রপার্টি। উনি জীবিত অবস্থায় আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ (বাকশাল) করেছিলেন। তাতে বাংলাদেশের সমস্ত লোক ছিলো। আওয়ামী লীগ তো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যূত হয়ে আজকাল আওয়ামী লীগ করছে। বঙ্গবন্ধু তো মৃত্যুর আগে আওয়ামী লীগে ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাকশালে।

বাংলামেইল: বঙ্গবন্ধুকে কী আওয়ামী লীগ দলীয়করণ করেছে?

শাজাহান ওমর: অবশ্যই। বঙ্গবন্ধু ছাড়া আওয়ামী লীগের পুঁজিটা কি? বঙ্গবন্ধু আমাদেরও পুঁজি। তিনি তো আমাদেরও নেতা।

বাংলামেইল: সেটা কি বিএনপি ধারণ করতে পেরেছে?

শাজাহান ওমর: কেন পারবে না? বিএনপি কি কখনও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেছে। রেকর্ড নিয়ে আসেন। জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া বিশেষ করে এই দুইজন বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কখনও কিছু বলেছে? এখন সাধারণ পাবলিক কি বলে আই ডোন্ট কেয়ার। এই দুইজন বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কখনও কটাক্ষ করেছে?

বাংলামেইল: রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় শোক দিবসে বিএনপির পক্ষ থেকে কখনও বিবৃতি দেখা যায় না কেন?

শাজাহান ওমর: আরে ভাই আমরা তো তার জন্যে দোয়া করি। বিবৃতি দিয়ে লাভ হয় কি। এক লোক মারা গেছে সে জান্নাতবাসী হোক, আমরা দোয়া করি। বিবৃতি দিয়ে কি দোয়া হয় নাকি? মৃত্যুর সঙ্গে রাজনীতি কেন টানেন? আমিও মারা যাবো, আপনিও মারা যাবেন। আমার কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে বলবেন ওমর ভাই ভালো লোক ছিলো, তার থেকে কফি খেয়ে আসছি। আসসালামু আলাইকুম ইয়া হালাল কুবুর, এটা বলে হেঁটে যাবেন। এতে কি বিবৃতি দেয়া লাগবে নাকি? যে ওমর ভাইকে ভালোবাসি তাই বিবৃতি দিলাম।?

বাংলামেইল: একাধিক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ছাত্রলীগ নেতারা মারা গেছে, এ নিয়ে আপনার মন্তব্য কি ?

শাজাহান ওমর: ক্রসফায়ার তো শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকে

বাংলামেইল: বিএনপি সরকারের সময় থেকে…

শাজাহান ওমর: বিএনপি সরকার না, অনেক আগে থেকে ক্রসফায়ার শুরু হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের আমল থেকে। প্রথম ক্রসফায়ারের শিকার হন সিরাজ সিকদার। আপনাকে ইতিহাস জানতে হবে। এরকম অনেকে আছেন, আজকে যারা হাসিনাকে সমর্থন করেন- যেমন রাশেদ খান মেনন তৎকালীন সর্বহারা পার্টির নেতা, হাসানুল হক ইনু তৎকালীন গণবাহিনী করতো, এরাতো বহু আওয়ামী লীগের লোক মেরেছে, রক্ষী বাহিনী মেরেছে। …ক্রসফায়ার শুরু হয়েছে সেই ১৯৭৩ সাল থেকে। নতুন কি? বিএনপি করবে কেন? সিরাজ শিকদারকে ক্রসফায়ারে মেরে সংসদে বলা হয়েছিলো কোথায় সিরাজ সিকদার? তারাইতো গুলি করা আগে শিখিয়েছে।

বাংলামেইল: আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অভিযোগ ছিলো ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু গত কয়েক দিনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতারা ক্রস ফায়ারে মারা গেছে…

শাজাহান ওমর: ক্রসফায়ারে কোনো পলিটিক্যাল লোক মারা যায় না। চোর, গুন্ডা, খুনী এরাই মারা যায়। তৃতীয় বিশ্বে আমি এই কাজটাকে অপরাধ বলি না।

বাংলামেইল: তার মানে ক্রসফায়ারকে আপনি সমর্থন করছেন ?

শাজাহান ওমর: সমর্থন না করলেও অনেক সময় এ কাজের প্রয়োজন আছে। যারা খুনের পর খুন, ডাকাতির পর ডাকাতি, রেপ এগুলো করে যাচ্ছে তাদের জন্য ক্রসফায়ার দরকার আছে। শোনেন, মানবাধিকার সুন্দর শব্দ, দানবাধিকার বলতে কোনো শব্দ আছে বাংলা ডিকশনারীতে? ওরা দানব। দানবের চৌদ্দগুষ্টি ক্রসফায়ারে দিলে দেশে শান্তি আসবে। ঠিকই আছে। দানবের কোনো মানবাধিকার নেই। ওগুলো কিছু কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী আছে না? আহারে, রুল অব ল নেই! আহারে বিচার পেলাম না! আহারে বিচার ব্যবস্থা! – এসব বলতে পারে। যারা অপরাধের পর অপরাধ করে দেশের স্বার্থে তাদের দু’য়েকটা ক্রসফায়ারে দেয়া একেবারে খারাপ না। এটা অন্য সবার জন্য উদাহরণ হবে। এরকম বাবা তোরা করিস না। দেশে ক্রসফায়ার আছে। তবে ক্রসফায়ারকে আইনগতভাবে আমি অ্যাপ্রুভ করি না।

বাংলামেইল: নৈতিকভাবে সমর্থন করেন?

শাজাহান ওমর: ক্রসফায়ার নৈতিকভাবেও সমর্থন করি না। কিন্তু অবস্থার প্রেক্ষিতে কিছু কিছু সময়- বর্তমানে যাদের করা হচ্ছে তাতে আমি অখুশি না।

বাংলামেইল: আপনি ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন…

শাজাহান ওমর: নো, ইউ আর রং। ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার পক্ষে আমি বক্তব্য দেইনি। ২০ দলীয় জোট নেতারা যখন বক্তৃতা হয়, তখন সবাই বেগম জিয়ার নেতৃত্বের ওপর সব আস্থাশীল। তাই আমি বলেছি, বেগম জিয়ার নেতৃত্ব বা জিয়াউর রহমানের কর্মসূচিতে আপনারা যদি আস্থাশীল থাকেন তাহলে একদল করেন। আর একদল না করলে যুগপৎ আন্দোলন করেন। আপনারা নিজস্ব দল করবেন। আর বিএনপির স্টেজে এসে বক্তৃতা দেবেন, এটা তো অসামঞ্জস্য হয়ে গেলো। আমি সেটা বলেছি।

বাংলামেইল: ২০দলীয় জোট নিয়ে এই বক্তব্যের পর জোট নেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ আপনার সাংগঠনিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

শাজাহান ওমর: আমার সাংগঠনিক যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ? আর উনারা প্রশ্নশুদ্ধ? আমি প্রশ্নবিদ্ধ কিনা বেগম খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞেস করেন। ওরা সব ওয়ান ম্যান পার্টি। নিজে সভাপতি, বউ সেক্রেটারি, পোলা যুবদল, নাতি ছাত্রদল। ওয়ান ম্যান পার্টি ২০ দলে আসছে কেন? এরা তো ২০ দলকে হেয় প্রতিপন্ন করছে। পার্টিতে বড় কে? অলি আহমেদ তো আগে বিএনপিতে ছিলেন , তিনি কেন ভেঙেছেন? আবার কেন ২০ দলে আসছেন? বিকল্প ধারা আগে বিএনপিতে ছিলো। তারা দল ভেঙেছে, আবার কেন আমাদের মিটিংয়ে আসে। হোয়াই? হয় আপনি দলটা ভেঙ্গে চলে আসেন, নইলে ডোন্ট কাম। আপনি যদি আলাদা প্রিন্সিপালে বিশ্বাস করেন তাহলে হোয়াই ডু কাম টুয়েন্টি পার্টি। আপনি আলাদা থাকেন। আপনি এইখানে এসে বড় মিটিংয়ে বক্তৃতা দেবেন, বেগম জিয়ার পাশে বসবেন? সারা ঘরে লোক ৩ জন। এই দল থেকে আপনি চলে গেছেন স্বেচ্ছায়। অলিকে তো বেগম জিয়া বের করে দেননি। অন্য যারা গেছেন তারাও নিজেদের ইচ্ছায় চলে গেছেন। এখন আবার ফিরে আসতে চান কেন? আসেন। নিজের দল ভেঙেচুরে আবার বিএনপিতে আসেন। দল খাড়া করবেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আদর্শ নিয়ে। এটা তো হয় না, বেমানান।

বাংলামেইল: বি. চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি জিয়ার আদর্শচ্যূত হয়েছে…

শাজাহান ওমর: বিএনপি কি জিয়ার আদর্শ থেকে দূরে গেছে নাকি? আওয়ামী লীগের মাদার যেমন মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান এবং বিএনপির মাদারও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এটা হয়তো উনি বলেন ওনার মনে দুঃখ- ক্ষোভ থেকে।

বাংলামেইল: বি. চৌধুরী, অলি আহমদ বিএনপিতে ফিরছে এমন গুঞ্জন রয়েছে…

শাজাহান ওমর: এছাড়া যাবে কই? আমি এ কথাই বলছি। আপনি যদি পত্রিকা দেখেন, ওনাদের অন্য দলে যাওয়ার জায়গা নেই। আমি এই কথাই বলছি। এইখানে আসেন। খামাখা ২০ দল করেন কেন?

বাংলামেইল: ২০ দলের নেতারা যদি বিএনপিতে যোগ দেয় তাহলে তারা কে কোন ধরনের পদ পেতে পারেন।

শাজাহান ওমর: যার যার যোগ্যতা অনুসারে পদ পাবেন। আমি যদি আপনাকে দাওয়াত করি আপনাকে আমি এই চেয়ারে বসাবো না ওই চেয়ারে বসাবো ইউ ক্যান নট ডিক্টেক্ট মি। আপনি আমার গেস্ট। আপনাকে আমি সুবিধা মতো বসাবো। আর যদি এমন হয় আপনি ওই চেয়ার ছাড়া আসবেন না। তাহলে ডোন্ট কাম।

বাংলামেইলকে সময় দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

শাজাহান ওমর: আপনাকে- বাংলামেইলকেও ধন্যবাদ। বাংলা মেইলের সৌজন্যে

Facebook Comments Box


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Exchange Rate

Exchange Rate EUR: Thu, 3 Apr.

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

UN Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Hawally. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 /+8801316861577

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com
error: দুঃখিত! অনুলিপি অনুমোদিত নয়।